ভোলার চরফ্যাশনে তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আব্দুল হাশেম মিয়া নামের এক অসহায় বাবা। দারিদ্র্য ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে প্রতিদিন সন্তানদের নিয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
আব্দুল হাশেম মিয়া চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সাত সন্তানের জনক হলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার তিন সন্তানই প্রতিবন্ধী।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের মধ্যে বড় মেয়ে জান্নাত বেগম (৩০), মেয়ে রুবিনা বেগম (১৬) এবং ছেলে আব্দুর রহমান (১৪)। জন্মের পর থেকেই তারা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে তারা অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একসময় দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন আব্দুল হাশেম মিয়া। কিন্তু বয়স ও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি আর কাজ করতে পারেন না। ফলে পরিবারের আয়ের উৎস প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
অভাব-অনটনের মাঝেও সন্তানদের দেখভাল করার চেষ্টা করছেন তিনি ও তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম। কিন্তু সামান্য আয়ে সংসারের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা ও ভরণপোষণের ব্যয় মেটানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় খাবারের সংস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে পরিবারটি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. নুরনবী মিয়া বলেন, “পরিবারটির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়দের আশা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটির দুর্দশা কিছুটা লাঘব হতে পারে।
ইখা