দীর্ঘ আলোচনার পর বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গাজায় যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত বিবরণ নিয়ে কাতারে আলোচনা চলছে। মধ্যস্থতাকারী কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের নেতারা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি চুক্তি সইয়ের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দোহায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা রুদ্ধদ্বার আলোচনায় আশাবাদ তৈরি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী কাতার, মিসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইসরায়েল এবং গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাসের কর্মকর্তারা বলেছেন যে অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির জন্য চুক্তিসইয়ের বিষয়টি যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সম্ভাবনার পথে রয়েছে। খবর রয়টার্সের।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষকে একটি খসড়া পাঠানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত বিবরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে, একজন সিনিয়র হামাস কর্মকর্তা মঙ্গলবার রাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি (হামাস) এখনো তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কারণ গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে কীভাবে সরিয়ে নেয়া হবে সেই বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে হামাস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, একটি চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাইডেন প্রশাসন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন প্রতিনিধিকে সঙ্গে রেখে আলোচনা করছে।
মঙ্গলবার জো বাইডেন ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেছেন। 'উভয় নেতা সরাসরি এবং তাদের টিমের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,' দুই নেতার ফোনালাপের পর হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এমনটি জানিয়েছে। একটি চুক্তি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন এই দুই প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, হামাস বলেছে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা আশা করছে এই শেষ রাউন্ডের আলোচনায় চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। ৪৫০ দিনের বেশি সময় ধরে নির্বিচারে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও কিছু বিবরণ নিয়ে এখনো কাজ করা প্রয়োজন। আমরা কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছি, তবে এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি।'
এবি