ভারতের যেকোনও ধরনের উসকানির জবাব কঠোরভাবে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। কাশ্মীর সংহতি দিবসে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে তিনি বলেন, ভারতের যে কোনো উসকানির জবাব পাকিস্তান সমান শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, একই ময়দানে দেবে। খবর দ্য নিউজের।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) শাহবাজ শরিফ বলেন, ভারত যদি কোনও ধরনের উসকানি দেয়, তাহলে পাকিস্তান তার জবাব দেবে সমান ও দৃঢ় শক্তিতে এবং যে ফ্রন্ট থেকে উসকানি আসবে, ঠিক সেখানেই তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর ভারত আবারও তার মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা জোরদার করেছে। ভারত তাদের আগ্রাসী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী নীতি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘ভারতের মদদে পরিচালিত যেকোনও সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একই দৃঢ়তা ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করবে, যেভাবে শত্রু যুদ্ধবিমান মোকাবিলা করা হয়েছিল।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে তা হবে সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে।’ তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হক’ কেবল পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার দক্ষতার বিজয় নয়, এটি কাশ্মীরি জনগণের ত্যাগেরও বিজয়।
তিনি বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাশ্মীর ইস্যু নতুন করে শক্তভাবে ফিরে এসেছে। এর মাধ্যমে কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের মিথ্যা বয়ান কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং এটি পাকিস্তানের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ পুনর্ব্যক্ত করেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান তার রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম চলবে বলেও তিনি জানান। তিনি কাশ্মীরি জনগণের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— কাশ্মীরিরা জীবন ও সন্তান বিসর্জন দিতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করে না।
এমআর-২