শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব ড. মিজানুর রহমান আজহারি।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পুলিশের মারমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেন।
আজহারি তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন যে, কেন পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর এতটা আগ্রাসী মনোভাব দেখাল, যেখানে চাইলেই মানবিক উপায়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব ছিল। বিচার চাইতে এসে শিক্ষার্থীদের এমন নির্মমতার শিকার হওয়াকে তিনি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভবিষ্যতে আরও সংযত ও পেশাদার আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের অধীনে ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে রওনা হলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে প্রথম দফায় সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়ার সময় দ্বিতীয় দফায় পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নারী কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে আন্দোলনকারীদের রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে দেখা গেছে।
পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায়, মুখে ও পায়ে ক্ষতচিহ্ন থাকলেও কোনো গুলিবিদ্ধ বা স্প্লিন্টার ইনজুরির রোগী পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাধীন ৩০ জনের শরীরে বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনা ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। পুলিশের দাবি, হাই-সিকিউরিটি জোন হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তারা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে শাহবাগ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এইচএ