ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। তবে গণভোটকে ঘিরে বরিশালে সরকারি প্রচার থাকলেও এর প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ফলে শহর থেকে শুরু করে উপজেলার অধিকাংশ ভোটার এখনো জানেন না গণভোট কী, কেন হচ্ছে কিংবা কোন প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে কী হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডিজিটাল বিলবোর্ড ও প্রচারগাড়ির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও তা মূলত জেলা শহরকেন্দ্রিক। প্রত্যন্ত গ্রাম, হাটবাজার কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ে গণভোট নিয়ে মাইকিং বা সরাসরি প্রচারণা খুব কমই চোখে পড়েছে।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সংসদ নির্বাচনের কথা সবাই জানলেও গণভোট সম্পর্কে তেমন আলোচনা নেই। অনেক ভোটার জানেন না, ভোটের দিন সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি আলাদা একটি গণভোটের ব্যালটও দেওয়া হবে। এতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত ছয়টি সংসদীয় আসনে একজন নারীসহ মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীরা উন্নয়ন, মামলা-হামলা, ভোটের পরিবেশ ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মতো ইস্যুতে কথা বললেও গণভোট বিষয়ে এক ধরনের নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গণভোটকে সামনে রেখে জাতি পুনর্গঠন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বৈপ্লবিক রূপান্তর নিশ্চিতে বরিশালে ‘হ্যাঁ’ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সভা শেষে নগরীতে মিছিল বের করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই।
তবে দিনমজুর ও সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ এখনো গণভোটের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানেন না।
এক ভোটার বলেন, “গণভোটে কী আছে কিছুই জানি না। কেউ এসে বুঝায়ও নাই। হ্যাঁ দিলে কী হবে, না দিলে কী হবে—কিছুই বুঝি না।”
এক নারী ভোটার বলেন, “আমরা হ্যাঁ ভোট দিব নাকি না ভোট দিব, এইডা এখনো জানি না। বুঝি না।”
সচেতন মহলের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও গণভোট সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়নি। বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচনের আগে আরও জোরালো ও কার্যকর প্রচার জরুরি।
ইখা