চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের গার্ডের দোকান হতে নতুনবাজার সড়ক প্রস্ততকরণ কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের বাধায় নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবসার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার করায় আপাতত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়কে নিম্নমানের ইট-খোয়াগুলো অপসারণ করে ভালোমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
উপজেলা এলজিইডির কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সংযোগ সড়কটি বাগানবাজার ইউনিয়নের গার্ডের দোকান হতে নতুনবাজার সড়কের প্রস্ততকরণের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স ফরমান টেক কর্পোরেশন'। যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ১শ মিটার ও প্রস্ত ১৬ ফুট। নির্মাণকাজের চুক্তিমূল্য ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক প্রস্তুতকরণ কাজের জন্য রাস্তার এক পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ইটের খোয়া। তবে ব্যবহৃত খোয়াগুলোর মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক খোয়া ভাঙা ও নরম প্রকৃতির হওয়ায় সেগুলোকে নিম্নমানের বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। কাজের স্থানে শ্রমিকদের দেখা যায়, খোয়াগুলোতে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাত্রদল নেতা আব্দুল হালিম জানান, “আমরা দেখেছি অনেক খোয়া হাত দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙে যাচ্ছে। এমন উপকরণ দিয়ে রাস্তা করলে বর্ষাকালে কাদা আর গর্তে ভরে যাবে। সরকারের এত টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু কাজ যদি ভালো না হয় তাহলে লাভ কী?এখন আমরা বাঁধা দিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদার। এভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা এর প্রতিবাদ জানালে আমাদের সামনে কাজ বন্ধ রাখে আবার কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদার।”
সাবেক ইউপি সদস্য পেয়ার আহমেদ বলেন, “৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রকল্প—এত বড় বাজেটের কাজে নিম্নমানের ইট-খোয়া ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা কাজ বন্ধ করিনি, শুধু মান ঠিক রেখে কাজ করার দাবি জানিয়েছি। সঠিক মান বজায় থাকলে আমরা সহযোগিতা করব।”
তবে ঠিকাদার আরিফুল ইসলাম আরিফের বলেন, “ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে এক নম্বর ইটের জন্য টাকা দিয়েছে, ইটভাটা মালিকের সঙ্গে কথা বলে ইট খারাপ হলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। স্থানীয়দের বাঁধা দেওয়ায় কাজ বন্ধ রেখেছি।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে নিম্মমানের ইটগুলো অপসারণ করতে বলে দেওয়া হয়েছে। সড়কে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেয়।”
ইখা