ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পাশাপাশি ৫ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম প্রেরিত আহ্বায়ক এস এম সুইট ও সদস্যসচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভের যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও কঠোর নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষা করে পরিচালিত এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য এক গুরুতর হুমকি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর এই ধরনের নগ্ন হামলা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। শক্তি প্রয়োগ ও সামরিক আগ্রাসন কখনো স্থায়ী শান্তি বয়ে আনে না বরং তা নতুন সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়। এই হামলার ফলে নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ঐতিহাসিকভাবেই অন্যায়, শোষণ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী শিক্ষার্থীরা বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে।
তারা দাবি জানান- এক. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে ইরানের ওপর সকল প্রকার সামরিক আগ্রাসন ও উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক পথে ফিরে আসতে হবে। দুই. জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসন, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তিন. মুসলিম দেশসমূহ ও আঞ্চলিক জোটগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে এবং চার. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইখা