কুমিল্লার চান্দিনায় একই ঘরের দুটি কক্ষ থেকে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাত বছরের মেয়েকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন মা।
রোববার (১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়নের সাঁকোজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের মোজাহিদুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী ফারহানা আক্তার (৩৩) ও তার মেয়ে ফাছিহা (৭)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফারহানা এক ছেলে ও দুই মেয়ের জননী। ছেলে বাবার সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। বড় মেয়ে (১০) স্থানীয় একটি মাদরাসায় আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করে। ফারহানা ছোট মেয়েকে নিয়ে শাশুড়ি কদরবানুর সঙ্গে বাড়িতে থাকতেন।
রোববার সকালে কদরবানু তালিম দিতে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে ফিরে এসে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন। দীর্ঘ সময় সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন।
প্রতিবেশী রাসেল মজুমদার জানান, দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় একটি জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। তখন এক কক্ষে শিশুটির ঝুলন্ত মরদেহ এবং অপর কক্ষে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখা যায়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, “একই ঘরের দুই কক্ষে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা মরদেহ দুটি নামিয়ে রেখেছিলেন। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করবে বলে আশ্বাস দেন।
পিএম