গণভোটের রায়কে আদালতে নেওয়ার মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় সরকারের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গণভোটে দেশের জনগণ সুস্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই গণরায়কে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কুমিল্লা নগরের স্টেশন ক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘গণভোটের সময় সবাই একসঙ্গে সংস্কারের পক্ষে ছিল। কিন্তু এখন সেই গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। জনগণের রায়কে আদালতে নিয়ে গেলে আমাদেরও রাজপথে নামতে হবে। আমরা জুলাইয়ের মতো স্লোগান দিতে চাই না, তাই আমাদের বাধ্য করবেন না।’
নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে এবং সেই সংসদকে সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা করে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প গ্রহণযোগ্য নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানকেই বর্তমান সময়ের আদালত, নির্বাচন ও সরকারের বৈধতার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে যদি প্রশ্ন তোলা হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা নির্বাচন কোনোটিই প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। এমনকি তারেক রহমানের সরকারও সেই কাঠামোতে গঠিত হয়নি। তিনি বলেন, যদি পুরনো সংবিধানের কথাই বলা হয়, তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে হবে। বর্তমান সরকার সে অবস্থান নিতে প্রস্তুত কিনা, সেটি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ভারতের কাছে অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানান। জুলাই গণহত্যার বিচার ও ওসমান হাদীর খুনীদের ফেরত না পাঠালে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক করা হবে না বলেও জানান তিনি।
এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ এগারো দলীয় জোটের কুমিল্লা বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইখা