এইমাত্র
  • দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস
  • প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ-ভারত
  • হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সব জাহাজের জায়গা হবে সাগরের তলদেশে
  • এলএনজির প্রথম চালান জাহাজে তুলেছে কাতার, গন্তব্য বাংলাদেশ
  • রাতেই ইরানে অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানা হবে: ট্রাম্প
  • ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
  • দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু
  • পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত
  • দেশে এ মুহূর্তে জ্বালানী তেলের কোনো সংকট নেই: কৃষিমন্ত্রী হাজী ইয়াছিন
  • ১৮৩ ক্রুসহ ইরানি যুদ্ধজাহাজকে আশ্রয় দিলো ভারত
  • আজ শনিবার, ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৭ মার্চ, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর ইউপি ভবন ২০ বছর ধরে অচল

    আরেফিন লিমন, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
    আরেফিন লিমন, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

    পটুয়াখালীর গলাচিপা সদর ইউপি ভবন ২০ বছর ধরে অচল

    আরেফিন লিমন, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

    পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতল কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণের প্রায় দুই দশক পার হলেও এখনো সেখানে বসেননি কোনো চেয়ারম্যান বা ইউপি সদস্য। জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য নির্মিত এই ভবনটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এবং দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    জানা গেছে, ২০০৬ সালে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলী তালুকদার এক একর জমি দান করেন ভবন নির্মাণের জন্য। ভবনটিতে চেয়ারম্যানের কক্ষ, সচিবের কক্ষ, ইউপি সদস্যদের কক্ষ, একটি হলরুম এবং আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশের জন্য আলাদা কক্ষ রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের প্রায় ২০ বছর পার হলেও ভবনটিতে কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে এটি গরু-ছাগল রাখার জায়গা এবং রাতে মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত কাঠামো। দরজা-জানালার বেশিরভাগই নেই। কক্ষগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরা। মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে গরু-ছাগলের মলমূত্র, নেশাজাতীয় দ্রব্যের খালি প্যাকেট ও খড়কুটো। ভবনের দেয়াল ও ছাদে শেওলা জমে বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবেশপথও কাদা-পানিতে ভরা থাকায় যাতায়াত প্রায় অগম্য। স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলায় এলাকাবাসী এখানে গরু-ছাগল বেঁধে রাখেন এবং খড়কুটো রাখেন। আর সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মাদকাসক্তদের আড্ডা, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম মাদবর বলেন, এই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত। দূর-দূরান্ত থেকে যুবকরা এসে এখানে নেশা করে, এমনকি মেয়েদের নিয়ে আড্ডা দেয়। কোনো সাইন বা শালিশের জন্য আমাদের গলাচিপা যেতে হয়। অনেক সময় সেখানেও চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায় না। আমরা খুবই হয়রানির শিকার।

    আরেক বাসিন্দা মো. টিপু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ এখন গরু-বাছুরের আস্তানা হয়ে গেছে। পরিষদের কার্যক্রম না থাকায় মানুষজন গরু-ছাগল বাঁধে। এখন এটা গরু আর খড় রাখার জায়গা হয়ে গেছে।যে চেয়ারম্যান - মেম্বার হয় হওয়ার আগে বলে এই পরিষদ চালু করবে গলাচিপা আর যাওয়া লাগবে না নির্বাচনের পর আর মনে থাকে না। বিভিন্ন অপকর্ম ও নেশার আড্ডা চলে এই ভবনে প্রশাসন দেখে না দেখার ভান করে। 

    ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি অকার্যকর থাকায় স্থানীয়দের বিভিন্ন সেবা পেতে যেতে হচ্ছে গলাচিপা পৌর শহরের একটি পুরোনো ভবনে। এতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া খরচ করতে হয়। একটি সাধারণ স্বাক্ষর বা শালিশ-বিচারের জন্যও দূর-দূরান্ত থেকে গিয়ে অনেক সময় চেয়ারম্যান বা মেম্বারদের পাওয়া যায় না।

    সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন প্যাদা বলেন, আমার পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান আবুল হোসেন তালুকদারের সময়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। আমি ২০০৩ সালে নির্বাচিত হওয়ার পরে ওই ভবনে উদ্বোধন হয়। সপ্তাহে আমি দুইদিন ওখানে অফিস কার্যক্রম করতাম। আমার পরবর্তী চেয়রাম্যানেরা ওখানে কোন অফিস কার্যক্রম করেন। কিন্তু প্রতি বছর সংস্কারের নামে টাকা লোপাট করেছে কিন্তু ভবনে কোন কাজের ছোঁয়া লাগেনি। ভবনটি বর্তমানে ঝুকিপূর্ণ হওয়য় পুননির্মাণ ছাড়া উপায় নেই। 

    ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দ্বায়িত্ব থাকা মোহাম্মদ জাফর রানা বলেন, প্রশাসক হিসেবে তিনি প্রায় সাত মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে গলাচিপা পৌর শহরে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পুরোনো যে ভবনটি রয়েছে সেটি তিনি পরিদর্শন করেছেন এবং সেটিকে পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পেয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানিয়েছেন, পুরোনো ভবনটি ভেঙে নিলামে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গলাচিপা সদর ইউনিয়নের বাসিন্দারা দ্রুত ভবনটি পুননির্মাণ করে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনগণের টাকায় নির্মিত এই ভবনটি আবার জনগণের সেবায় ফিরে আসবে এবং দীর্ঘ ২০ বছরের অবহেলার অবসান ঘটবে।

    এফএস

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…