এইমাত্র
  • বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কামিন্স
  • সঠিক হকদারের কাছে যাকাত পৌঁছাতে হবে: ধর্ম উপদেষ্টা
  • ‘চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স চায় তরুণরা’
  • দেশের বহু মানুষ যাকাত দেন না, তাদের ঈমান নেই: ধর্ম উপদেষ্টা
  • সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন বিএনপির সাবেক এমপি মনজুর কাদের
  • সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি মোতায়েন
  • চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের গোড়া উপড়ে ফেলতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান
  • সিরাজগঞ্জের জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ঘরে অগ্নিসংযোগ
  • জামায়াতে যোগ দিলেন বরিশাল বিএনপির ২শ' নেতাকর্মী
  • সরকার গঠন করলে জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবো: নাহিদ ইসলাম
  • আজ শনিবার, ১৮ মাঘ, ১৪৩২ | ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    চট্টগ্রামে ভোটকেন্দ্র ঘিরে শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ৬৫৩ কেন্দ্র

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

    চট্টগ্রামে ভোটকেন্দ্র ঘিরে শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ৬৫৩ কেন্দ্র

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের ভোটকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পৃথক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের মোট ১ হাজার ৫৬২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

    জেলা পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৫টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তালিকায় নগরীর চারটি সংসদীয় আসন ও হাটহাজারী উপজেলার আংশিক এলাকা মিলিয়ে ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০৮টিকে ‘অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলা ও মহানগর এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫৩।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) আসনে। এ আসনের ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিল্প এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল ও ঘনবসতির কারণে আসনটি নিরাপত্তার দিক থেকে বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

    অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই–জোরারগঞ্জ) আসন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ১০৬টি কেন্দ্রের কোনোটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি–ভূজপুর) আসনের ১৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ।

    উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চল নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক বেশি। এখানে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্গমতা ও যোগাযোগ সীমাবদ্ধতার কারণে সন্দ্বীপের কয়েকটি কেন্দ্র বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক এলাকা) আসনের ১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের ৯৫টির মধ্যে ২১টি এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের ৯২টির মধ্যে ছয়টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরের আংশিক এলাকা) আসনে ২৫টি, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ২৪টি এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ১৩টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক বেশি। এখানে ১১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৪ ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রকেও দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

    এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। নগরীর ১৬টি থানার অধীনে থাকা ৬০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০৮টিকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলশী থানার ৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি ঝুঁকিপূর্ণ। আকবরশাহ থানার সব ২২টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, পাহাড়তলী, সদরঘাট ও চান্দগাঁও থানাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে বন্দর থানার আওতাধীন কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়নি।

    নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিক ও অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রধারী পুলিশ, সেকশন কমান্ডার, আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার জন্য আলাদা অস্ত্রধারী নিরাপত্তা সদস্য রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের নিরাপত্তায় মহিলা আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

    সাধারণ কেন্দ্রগুলোতেও পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

    দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকা—বিশেষ করে সন্দ্বীপ ও বাঁশখালীতে—পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য মোতায়েন করা হবে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা থাকবে পুলিশ কমিশনারের।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…