পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঢাকা–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কই এখানকার মানুষের একমাত্র ভরসা। পর্যটনশিল্পসহ নানা সম্ভাবনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সারা বছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা সাজেকসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে আসেন এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু ভৌগোলিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর ধরে (২০২৪–২০২৫) সড়কের অবস্থা চরমভাবে অবনতি হয়েছে। রামগড় পৌরসভা থেকে পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের পিচঢালা কার্পেটিং প্রায় পুরোপুরি উঠে গেছে। জায়গায় জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন। হাজারো মানুষের চোখে পড়লেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) দৃষ্টি যেন এ সড়কের দিকে নেই।
গত বছর সাময়িকভাবে কয়েকটি স্থানে ভাঙা ইট ও সামান্য পাথর ফেলে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা উল্টো বিপদের কারণ হয়েছে। এসব স্থানে গাড়ির চাকা পাংচারসহ নানা সমস্যায় পড়ছেন চালকেরা।
এদিকে শুষ্ক মৌসুম প্রায় শেষ, সামনে বর্ষা। সাধারণত এই সময়েই সড়ক সংস্কারের কাজ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো স্থায়ী মেরামতের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে বর্ষা শুরু হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
সওজের অবহেলা ও অপেশাদারিত্বের কারণে মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। খাগড়াছড়ি সওজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়ক বিভাগবিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর এই সড়কের দুরবস্থার প্রতিবাদে রামগড়ে সড়কের ওপর ধান রোপণ করে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছিলেন স্থানীয়রা, যা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
তখন সওজ সাময়িকভাবে কিছু সংস্কার করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঢাকা–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের রামগড় পৌরসভা থেকে বাগানবাজার পর্যন্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা না হলে জনজীবনের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে।
ইখা