নারায়ণগঞ্জের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে জরিমানা গুনতে হয়েছে বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থী কাসেমী কুতুবপুরের দেলপাড়া লিটল জিনিয়াস স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রচারণা চালান। এ সময় তাঁকে নারী ভোটারদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করতেও দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
খবর পেয়ে দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লিটল জিনিয়াস স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের মাইক ব্যবহার করে তাঁর পক্ষে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে কাসেমী প্রকাশ্যে একাধিক নারী ভোটারের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। এমনকি তিনি আসার আগ থেকে চলে যাওয়ার পর পর্যন্ত অনুষ্ঠানের মাইক ব্যবহার করে তাঁর পক্ষে ভোট চাওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, এই ঘটনা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(খ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আয়োজক ও প্রার্থীর প্রতিনিধিরা দোষ স্বীকার করেন। দোষ স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আচরণবিধিমালার ২৭(ক) ধারায় প্রার্থীর প্রতিনিধির কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই নির্বাচনী প্রচারণার স্থান হতে পারে না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাঙ্গন রাজনীতিমুক্ত রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।” পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাঠে থাকা অন্য প্রার্থীরা একযোগে কাসেমীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মুহাম্মদ শাহ আলম দাবি করেছেন, তাঁর নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে তিনি ১ ফেব্রুয়ারি সবকিছু প্রকাশ্যে আনবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাসেমীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। সস্তাপুর এলাকায় অভিযানকালে তাঁর একটি নির্বাচনী ক্যাম্পে খেজুর গাছ প্রতীকের ব্যানারের পাশাপাশি ধানের শীষ প্রতীকের ছবি পাওয়া যায়, যা আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ৭(ঙ) ধারা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়।
নগদ অর্থ বিতরণের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনির হোসেন কাসেমীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইখা