যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিবাসন বিচারক তুরস্কের শিক্ষার্থী রুমেসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে নির্বাসন মামলা বাতিল করে দিয়েছেন। এতে প্রায় এক বছর আগে গ্রেপ্তারের পর তাকে দেশছাড়া করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেয়া উদ্যোগের অবসান ঘটল। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এ তথ্য জানায়।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, রুমেসা ওজতুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ইউনিভার্সিটির শিশু বিকাশ বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ম্যাসাচুসেটসের সোমারভিলে সাদাপোশাকে থাকা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। একটি ছাত্র পত্রিকায় প্রো-প্যালেস্টাইন মতামতধর্মী লেখায় সহ-লেখক ছিলেন তিনি। এর জের ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারক রায়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাকে দেশছাড়া করার মতো কোনো আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেনি। এ বিষয়ে ওজতুর্ক বলেন, ‘আজ আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি। বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমার মামলাটি হয়তো তাদের জন্য আশার আলো হবে, যারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন।’
তার সঙ্গে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। ওজতুর্ক বলেন, ‘তবে এই রায় প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব।’
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী ওজতুর্ক যুক্তরাষ্ট্রে থাকার যোগ্য নন। তাদের অভিযোগ, তার কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থনের শামিল।
তবে ওজতুর্কের আইনজীবীরা এসব অভিযোগকে প্রতিশোধমূলক বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, এটি পুরোপুরি তার মতপ্রকাশের অধিকারের সঙ্গে জড়িত। তারা যুক্তি দেন যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে।
গ্রেপ্তারের পর ওজতুর্ককে একাধিক অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়—ম্যাসাচুসেটস থেকে ভারমন্ট, পরে লুইজিয়ানায় এ বিষয়ে আগে থেকে তার আইনজীবীদের জানানো হয়নি বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়। ছয় সপ্তাহ পর ভারমন্টের এক ফেডারেল বিচারক তাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ডিসেম্বরে সরকার বেআইনিভাবে ওজতুর্কের শিক্ষার্থী ভিসার রেকর্ড বাতিল করেছে বলে রায় দেন এক ফেডারেল বিচারক। ওই রায়ের ফলে তিনি আবারও তার একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে, মার্কিন প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে, কিন্তু ওজতুর্কের ভিসা রেকর্ড এখনো বহাল রয়েছে।
তার আইনজীবীদের একজন মাহসা খানবাবাই। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে রুমেসা ওজতুর্কের মতো আমাদের সমাজের মূল্যবান সদস্য ও গবেষকদের টার্গেট করেছে। এই মামলা দেখিয়েছে কীভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে দমন করতে অভিবাসন আইন ব্যবহার করা হয়।’
এবি