দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ভোটাধিকার নিয়ে বির্তকের পর অবশেষে ভোট উৎসবের ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিন আজ। আজ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত।
এদিকে, সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইনও দেখা গিয়েছে কোনো কোনো কেন্দ্রে।
কুমিল্লা লালমাই উপজেলার খিলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভোটাররা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। এসময় কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মো. লিটনের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তাই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছি না। সকালেই ভোট দিতে চলে এসেছি।
এ কেন্দ্রে কথা হয় আরেক বাসিন্দা কুলসুম আরার সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল সকাল ভোট দিয়ে গিয়ে বাড়ির কাজ করতে হবে। তাই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছি।
এদিকে, জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৭০ হাজার ২৩৮ জন, নারী ভোটার ২৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩০ জন। এবারের নির্বাচনে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৪৯১টি।
এছাড়া পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন। এছাড়া কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৭টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্র এর মধ্যে ৯৩৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকির আওতায় রয়েছে।
এছাড়া, জেলা পুলিশ জানিয়েছে - নির্বাচনে কুমিল্লায় শুধু বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকেই ৩ হাজার ৯৭৯ জন সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ হাজার ৫০ জন, বিজিবির ৫০০ জন এবং আনসার বাহিনীর ১৯ হাজার ৩৮৩ জন সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। সব মিলিয়ে ২৬ হাজার ৩৩৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচন নিরাপত্তায় কাজ করবেন। এছাড়াও, জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ৭৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য ও তিনজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যাদের মধ্যে একজন থাকবেন অস্ত্রধারী। পুলিশ সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে। কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সেনাবাহিনী ও বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্স। এছাড়াও আনসারের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে সক্রিয় থাকবে। প্রতিটি ইউনিয়নে স্ট্রাইকিং ফোর্স ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন বদ্ধ পরিকর রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আজ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
এবি