চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সারাদেশের ন্যায় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়; চলবে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
ভোট দেওয়ার জন্য ভোর থেকে কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সকল ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ‘সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল’, যেখান থেকে ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত সাতকানিয়া উপজেলায় মোট ১২৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও প্রযুক্তিগত সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা দুর্বৃত্তায়নের চেষ্টা হলে মনিটরিং সেল থেকে তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। ফলে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা মনিটর করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৫ আসনের সাতকানিয়া উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৬৭ জন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন, যাতে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপ নথিবদ্ধ থাকে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল এই নজরদারি ব্যবস্থার ফলে পেশিশক্তির ব্যবহার, ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের মতো অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে। একই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এবি