এইমাত্র
  • গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ জয় পেলে ‘হ্যাঁ’
  • তারেক রহমানকে ভাই সম্বোধন করে মমতার অভিনন্দন
  • দ্রুত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আশ্বাস ইসির
  • দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ এমপি হান্নান মাসউদ
  • নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তুষ্ট জামায়াত
  • আলোচনায় থেকেও পরাজিত হলেন যারা
  • ২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা, স্থগিত ২টি
  • ছুটি শেষে যেদিন খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  • ‘সব আশঙ্কা কাটিয়ে ঈদের উৎসবের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন জনগণ’
  • জুলাই সনদে যা যা সই করেছি, সব পূরণ করবো: মির্জা ফখরুল
  • আজ শুক্রবার, ৩০ মাঘ, ১৪৩২ | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    বদলে গেল চট্টগ্রামের রাজনৈতিক মানচিত্র

    চট্টগ্রামে বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্য, দক্ষিণে জামায়াতের অপ্রত্যাশিত উত্থান

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

    চট্টগ্রামে বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্য, দক্ষিণে জামায়াতের অপ্রত্যাশিত উত্থান

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম


    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাকি দুইটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ফলাফল বিশ্লেষণে স্পষ্ট, চট্টগ্রামে এবারের নির্বাচন কার্যত বিএনপির একক আধিপত্যের চিত্র তুলে ধরেছে, তবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দুটি আসনে জামায়াতের জয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নগর ও জেলা মিলিয়ে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১ হাজার ৯৬৫টি, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় ৫৮টি কম। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিনভর ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে।



    চট্টগ্রামের সংসদীয় মানচিত্র অনুযায়ী, তিনটি আসন পুরোপুরি মহানগর এলাকায় অবস্থিত, ১০টি আসন জেলা প্রশাসনের আওতাভুক্ত এবং বাকি তিনটি আসন নগর ও জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই বৈচিত্র্যময় ভূগোলেই এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়।



    চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই):

    এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৮৩ ভোট।



    চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি):

    বিএনপির সরওয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।



    চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ):

    এ আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলা উদ্দীন পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫১৯ ভোট। এ আসনে ৪ হাজার ৭৮৪টি পোস্টাল ভোটের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পড়ে ২ হাজার ৫০৫ ভোট, আর ধানের শীষ পেয়েছে ৬৮৪ ভোট, যা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



    চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ):

    বিএনপির আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।



    চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ):

    বিএনপির ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট। জামায়াতের মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ভোট।



    চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান):

    এখানে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৬ ভোট এবং জামায়াতের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩ ভোট।



    চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া):

    বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬৭ ভোট। জামায়াত প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৬৫ ভোট।



    চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ):

    বিএনপির এরশাদ উল্লাহ ৭২ হাজার ৫৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। মোমবাতি প্রতীকের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পেয়েছেন ২২ হাজার ৫৩২ ভোট। একই জোটের আলোচিত দুই প্রার্থী, জামায়াতের মো. আবু নাসের পেয়েছেন ১৭ হাজার ২৮৬ ভোট এবং এনসিপির মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ শাপলা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫৮ ভোট।



    চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া):

    বিএনপির আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৮ ভোট। জামায়াতের ডা. ফজলুল হক পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬০১ ভোট। ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রের ফল না এলেও জয়ের ব্যবধান এতটাই বেশি যে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।



    চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী):

    বিএনপির সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৪ ভোট। সাতটি কেন্দ্রের ফল না এলেও ফলাফল নিশ্চিত হয়।



    চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা):

    বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ ভোট। জামায়াতের মুহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট।



    চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া):

    বিএনপির এনামুল হক এনাম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট এবং জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪০ ভোট।



    চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী):

    বিএনপির সরোয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৩৩৭ ভোট। ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৬১ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ২১ হাজার ৩৯১ ভোট।



    চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ):

    বিএনপির জসিম উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। এলডিপির ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট, এই আসনটি ছিল সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের উদাহরণ।



    চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়ার একাংশ ও লোহাগাড়া):

    জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীনপেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।



    চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী):

    জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট। বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট, যা এই আসনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।




    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…