পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এসব সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস এবং কালাইয়া গ্রামের রমিজ দর্জি (৪০) নামের এক বিএনপি কর্মীর বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত সমর্থিত কর্মীরা এসব হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া কনকদিয়া ও মমিনপুর এলাকায় পৃথক মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো. শাহআলম বিপ্লবের (৪৬) প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় যুবদল কর্মী সুজনের নেতৃত্বে একদল যুবক। পরে তারা মো. সেলিম (৫২) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকেও মারধর করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াস উদ্দিনের বাসায় প্রবেশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই খবর পেয়ে জামায়াত সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে গিয়াসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাম দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও বৈদ্যুতিক মালামাল লুটপাট করে। এ সময় গিয়াসের বাসভবনের সামনে রাখা অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল এবং ফ্রিজ ও এসি ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে, সকাল ৮টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বীরপাশা খায়েরবাজার এলাকায় বিএনপির কর্মী আলমগীর গাজী (৫৫) ও শাহাবুদ্দিন সরদারকে (৪৮) পিটিয়ে জখম করে জামায়াত সমর্থকেরা। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুপুর ১টার দিকে কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে মো. ফিরোজ (৫৫) নামের এক জামায়াত সমর্থককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ফিরোজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, “কয়েকটি জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নবনিযুক্ত সংসদ সদস্য ও জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করি না। কোনোভাবেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমার কোনো কর্মী-সমর্থক যদি এ সব ঘটনায় জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এনআই