ভালোবাসা দিবসের এই বিশেষ দিনে এক প্রিয় শিক্ষককে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন তাঁর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা মাইক্রোবাস আর পেছনে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শিক্ষককে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার এই আয়োজন ছিল দেখার মতো।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীকে এমন রাজকীয় সম্মানে বিদায় জানান তাঁর প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কাদিহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান আলী মানিক, বালিয়া হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, পিছিয়ে থাকা সীমান্ত এলাকার এই প্রত্যন্ত স্কুলটিকে তিনি তিন দশক ধরে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। শিক্ষক ইউসুফ আলীর হাতে গড়া অসংখ্য ছাত্র আজ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদে আসীন হয়ে দেশসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ইউসুফ স্যারের শাসন আর পরম যত্নেই আজ আমরা সফল হতে পেরেছি। আমাদের সাফল্যের পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।”
বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিদায়ী শিক্ষক ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, “জীবনের শেষ বেলায় এসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পাব, তা কল্পনাও করিনি। সারাজীবন ছাত্রদের নিজের সন্তানের মতো দেখার চেষ্টা করেছি, আজ সেই কর্মের ফল পেলাম। বাকি জীবনটুকু এই ভালোবাসা নিয়েই কাটিয়ে দিতে চাই।”
উল্লেখ্য, ইউসুফ আলী কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের শেষ দিন।
এনআই