এলাকায় কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। এমন সাহসিকতার জন্য পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লুৎফুর রহমান কাজল লেখেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। কেউ এমন অপচেষ্টা করলে তাকে তৎক্ষণাৎ আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।” তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই তাঁর মূল অগ্রাধিকার।
পৃথক আরেকটি পোস্টে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে কাজল লেখেন, “বিজয় মানে প্রতিপক্ষকে হেয় করা নয়। সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়।” তিনি মহানুভবতার সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাবে বিজয় উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার-৩ আসনের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কারও ওপর চাপ সৃষ্টি বা ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
অনুরূপ সুর শোনা গেছে কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহর কণ্ঠেও। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনিও চাঁদাবাজদের আইনের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের এমন দৃঢ় অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত মেম্বার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অপরাধ করলে তার দায় তিনি নেবেন না। এমনকি অপরাধী যদি ঘনিষ্ঠজনও হন, তবুও ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এমপি কাজলের এমন নির্দেশের পর সদরের খরুলিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় মাইকিং করতে দেখা গেছে স্থানীয় যুবদল নেতাদের। উপজেলা যুবদল নেতা ইনু মোহাম্মদ ইউনুস হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নির্দেশে এলাকায় জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেউ মাদক ব্যবসা বা হয়রানির সঙ্গে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা এড়াতে এবং সম্ভাব্য চাঁদাবাজি বা প্রতিহিংসামূলক তৎপরতা ঠেকাতে এ ধরনের প্রকাশ্য ঘোষণা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে এসব ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তার ওপর নির্ভর করছে বলে তাঁরা মনে করেন।
এনআই