হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীন তীর্থস্থান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে শুরু হয়েছে শিবচতুর্দশী তিথি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী মেলা ও ধর্মীয় আয়োজন। তবে প্রতিবছরের তুলনায় এবার তীর্থযাত্রীদের সমাগম কম দেখা গেছে। এতে মেলাকে কেন্দ্র করে আসা ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শিবরাত্রি উপলক্ষে শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত।
শিবরাত্রি উপলক্ষে প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে চন্দ্রনাথ ধামে লাখো পূণ্যার্থী সমবেত হন। তবে এবছর নির্বাচনকালীন সময় এবং বিভিন্ন কারণে তীর্থযাত্রীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সীতাকুণ্ড স্রাইন (তীর্থ) কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাস বলেন, “শিবচতুর্দশী তিথি শুরু হবে রবিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে এবং শেষ হবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটের পর। প্রতিবছর এ সময় তীর্থযাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত থাকত চন্দ্রনাথ ধাম। এবার উপস্থিতি কম।”
তিনি জানান, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
মেলার প্রথম দিন ত্রয়োদশীতে পূণ্যার্থীরা সংযম পালন করেন। চতুর্দশী তিথিতে ব্রত রেখে স্নান ও তর্পণ শেষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত মঠ-মন্দির পরিক্রমা করেন। এরপর স্বয়ম্ভুনাথ ও চন্দ্রনাথ মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালেন। তৃতীয় দিন অমাবস্যায় পূর্বপুরুষের আত্মার সন্তুষ্টির জন্য শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করা হয়।
মেলাকে কেন্দ্র করে দোকান বসানো ব্যবসায়ী শ্রী বিপ্লব প্রসার বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার তীর্থযাত্রী অনেক কম। বেচাকেনাও নেই বললেই চলে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি ধর্মীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছে। নিরাপত্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও থাকবে।”
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট উঁচু চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম পরিক্রমাই পূণ্যার্থীদের মূল লক্ষ্য। পাহাড়িপথ পাড়ি দিয়ে ভক্তরা বিরুপাক্ষ মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির, ভবানী মন্দির, সীতা মন্দির ও হনুমান মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে পূজা-অর্চনা করেন।
ভোলানন্দগিরি সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী উমেশানন্দ গিরি বলেন, “শিবরাত্রিতে ব্রত পালন করে পূণ্যার্থীদের আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির জন্য ব্যাসকুণ্ডে স্নান করে তীর্থ শুরু করতে হয়।”
ইখা