সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এই আলোচনা শুরু হয়। যা স্থানীয় সময় বিকেল পর্যন্ত চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ‘পরোক্ষভাবে’ যুক্ত থাকবেন বলে আগেই জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত আছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলমান বিরোধের সমাধান।
এ আলোচনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
আলোচনার সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সাথে দেখা করার পর এক এক্স বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ইরান ‘একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি অর্জনের’ চেষ্টা করছে। বলেন, ‘একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি অর্জনের জন্য আমি বাস্তব ধারণা নিয়ে জেনেভায় এসেছি। টেবিলে যা নেই: হুমকির সামনে আত্মসমর্পণ।’
অন্যদিকে এদিন ট্রাম্প বলেন, ইরান বরাবরই আলোচনার টেবিলে কঠোর অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু গত গ্রীষ্মে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়, তখন তারা সেই অবস্থানের পরিণাম বুঝতে পেরেছে। ট্রাম্পের মতে, ‘চুক্তি না করার পরিণাম ভোগ করতে তারা (ইরান) আর চাইবে বলে আমার মনে হয় না।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, জেনেভা আলোচনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যদি আমেরিকা ‘ইসরাইলি এজেন্ডা বাদ দিয়ে নিজস্ব এজেন্ডায়’ মনোনিবেশ করে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্লেষক হাসান আহমাদিয়ান বলেন, দ্বিতীয় দফার আলোচনায় সাফল্যের সম্ভাবনা মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি অভিন্ন ভিত্তি খুঁজে নেবে, তবে অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তি ইসরাইলের সাথে নয়। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলি এজেন্ডা বাদ দিয়ে নিজস্ব এজেন্ডায় মনোনিবেশ করে, তাহলে ২০১৫ সালের মতোই উভয়ের মধ্যে একটি অভিন্ন ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।’
আহমাদিয়ান বলেন, ‘যদিও সময় ভিন্ন, আলোচনা ভিন্ন, বিষয়বস্তু ভিন্ন, কোথায় যেতে হবে সে সম্পর্কে কিছু বোঝাপড়া রয়েছে। আমেরিকান দৃষ্টিভঙ্গি বেশ অস্পষ্ট, তবে তারা এমন কিছু ধারণা নিয়ে এসেছে যা ইরানিরা ভাবতে পারে।’
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের অবস্থান গ্রহণ করেন, যেখানে শর্ত হলো আপনার [পারমাণবিক] সমৃদ্ধকরণ থাকবে না, আপনার [পারমাণবিক] অবকাঠামো থাকবে না, আপনার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থাকবে না, ইরানে আপনার জন্যও কিছুই থাকবে না।’
এমআর-২