এইমাত্র
  • শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ে আর কোনো দুর্নীতি হবে না: শিক্ষামন্ত্রী
  • বরিশালে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
  • সংকটে সাতকানিয়ার ইটভাটা শিল্প
  • লংগদু জোনে রমজান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
  • মাদারীপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ২০
  • ভারতের যৌনপল্লি থেকে ১১ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার
  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভাকে ইবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা
  • ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আজ
  • শায়েস্তাগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে জিয়া খাল, পুনঃখননের দাবি
  • রাঙ্গামাটিতে রুফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন
  • আজ বৃহস্পতিবার, ৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    তরমুজ চাষে সার নীতিমালা উপেক্ষা, মাটির উর্বরতা নিয়ে শঙ্কা

    কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১০ পিএম
    কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১০ পিএম

    তরমুজ চাষে সার নীতিমালা উপেক্ষা, মাটির উর্বরতা নিয়ে শঙ্কা

    কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১০ পিএম

    পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় গত এক দশকে ব্যাপক আকারে এর আবাদ বেড়েছে। তবে দ্রুত সময়ে বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক সরকারের সুপারিশকৃত সার নীতিমালা উপেক্ষা করে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। এতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ অঞ্চলে প্রতি শতক তরমুজের জমিতে মোট ২ কেজি ৮৩১ গ্রাম রাসায়নিক সার এবং ২৮ কেজি জৈব সার ব্যবহারের বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ১ কেজি ২৮ গ্রাম, টিএসপি বা ডিএপি ৭২৯ গ্রাম, এমওপি ৬৪৮ গ্রাম, জিপসাম ৩৪০ গ্রাম, জিংক সালফেট ৬২ গ্রাম এবং বোরিক এসিড ২৪ গ্রাম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটির প্রাণ হিসেবে পরিচিত জৈব সার ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


    কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে প্রতি শতকে প্রায় ৩ কেজির কম রাসায়নিক সার ব্যবহারের কথা, সেখানে অনেক কৃষক ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত সার প্রয়োগ করছেন। বিপরীতে জৈব সার প্রায় ব্যবহারই করা হচ্ছে না। ফলে জমির জৈব উপাদান কমে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন ধরে রাখতে আরও বেশি সারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।


    চরকালাইয়া গ্রামের তরমুজচাষি আনোয়ার প্যাদা, মিলন গাজী, ইব্রাহিম ও জাকির প্যাদা বলেন, তরমুজ চাষে সারই মূল বিষয়। তাদের ধারণা, যত বেশি সার দেওয়া হবে, তত বেশি ফলন হবে। তাঁরা প্রতি শতক জমিতে ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার চার ধাপে প্রয়োগ করেন।


    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আসাদুল হক বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির পিএইচ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এতে জৈব পদার্থ হ্রাস, পুষ্টি উপাদানের অসামঞ্জস্য এবং উপকারী অনুজীব ধ্বংস হয়। ফলে মাটি ধীরে ধীরে অনুর্বর হয়ে পড়ে এবং অন্য ফসলের উৎপাদনও কমে যায়।


    শৌলা গ্রামের কৃষক আফজাল মিয়া, চরমিয়াজান গ্রামের জলিল ফরাজি ও মমিনপুরের আলাল হোসেনসহ একাধিক কৃষক বলেন, আগে তাদের জমিতে আমন ধানের ফলন ভালো হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে জমি নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের গাছ দেখতে ভালো হলেও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি রবি মৌসুমের অন্যান্য ফসলও আর চাষ করা যাচ্ছে না।


    তারা আরও অভিযোগ করেন, তরমুজ খেতের রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানি কিংবা জোয়ারের পানিতে ধুয়ে ডোবা-নালা ও খালের পানিতে মিশে যাচ্ছে। সেই পানি পান করে গবাদিপশু, বিশেষ করে মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি উপজেলার চরমমিনপুর এলাকায় এক কৃষকের সাতটি মহিষ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তাঁরা।


    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, অনেক কৃষক ভুলভাবে মনে করেন বেশি সার দিলেই ফলন বেশি হবে। বাস্তবে এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কৃষকদের উচিত মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহার করা। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি কৃষিজমির ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত থাকবে।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…