রমজানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে ইফতার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ছোলা, ডাল, বেগুন, লেবু, খেজুর থেকে শুরু করে মুরগি ও গরুর মাংস প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। ক্রেতারা বলছেন, এই দাম নির্ধারিত আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ। মাসের শুরুতেই বড় অঙ্কের টাকা বাজারে চলে যাচ্ছে।
রোজা শুরুর আগেই জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে বাড়তি দামের চাপ। কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীত মৌসুমের সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দামে তার কোনো প্রভাব নেই। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ–সব মিলিয়ে বাজারে গেলেই হিসাবের খাতা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে- এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান শুরুর আগেই ফল ও নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বগতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের। বিশেষ করে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি ব্যয় সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, কৃত্রিম সঙ্কট প্রতিরোধ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রমজানে এ চাপ আরো বাড়তে পারে।
এক সপ্তাহ আগেও ৬৫ টাকা কেজির ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। কাঁচামরিচ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। ৭০ টাকার বেগুন এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এছাড়া শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, লেবু কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুর প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। গরুর মাংসেও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৮০০ টাকা। মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফ্রেব্রুয়ারি) বিকালে সরেজমিনে জেলা শহরের বড়বাজার, কাচারিবাজার, পুরানথানা কাঁচাবাজারসহ জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার বাজারগুলোতে ঘুরে একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রাম থেকে বাজার করতে আসা সালমা বেগম বলেন, “রমজান সামনে খরচ এমনিতেই বেশি। তার ওপর বাজারে এসে দেখি প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে যে টাকায় এক সপ্তাহের বাজার হতো, এখন সে টাকায় দু'দিনের বেশি চলবে না। রমজানে বাজার করাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে গেছে, সবজিতে ভরা অথচ টমেটো, শিম, গাজরের দাম অনেক বেশি। এমন দামে মানুষ স্বস্তিতে থাকবে কীভাবে?
বাজার করতে আসা আলাল মিয়া বলেন, আমরা আজব এক দেশে বাস করি, রমজানকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর সকল দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম ছাড় দেওয়া হয়। আর আমাদের দেশে রোজায় দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে এত দাম বাড়া অস্বাভাবিক। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি থাকলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারত না। আমরাদের মাসিক আয়তো বাড়েনি বেড়েছে নিত্য পণ্যের দাম। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার। তাইলে হয়তো নিত্য পণ্যের দাম ঠিক থাকবে।
কাঁচারি বাজারের মাংস বিক্রেতা হাবিব কসাই বলেন, ‘গ্রাম থেকে গরু কিনতে গেলে রোজার অজুহাত দেখিয়ে গিরস্তরা গরুর দাম বাড়িয়ে দেয়। আর অনেকে মনে করে আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করি। বর্তমানে গরুর দাম বেশি। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়েছে, তাই খুচরা বাজারে গরুর মাংস আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’
চাল ও ডালের দামের বিষয়ে বড় বাজারের ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া জানান, মিল ও আড়ৎ থেকে যে দামে চাল-ডাল আসছে, ভাড়া আর দোকান খরচ যোগ হলে খুচরা দামে প্রভাব পড়বেই। ডালের ক্ষেত্রেও আমদানি ও সরবরাহ ব্যয়ের কারণে দাম কমছে না।
ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, এমন সময়ে আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে। রমজান শুরু হয়েছে আর ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে গেছে, আর সেই সঙ্গে পাইকারি বাজারে ডাল, তেল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই বাজার স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল থাকুক, যাতে সাধারণ ক্রেতারা অতিরিক্ত খরচের চাপ না পান।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। বর্তমানে শহরের বাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এসআর