যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স দেয়া এক বার্তায় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে এবং চুক্তি চূড়ান্ত করতে এবার ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ আশা করা হচ্ছে।
এমন সময়ে এ আলোচনার ঘোষণা এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।
ওমানের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস জানান, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ চরিত্র নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ নজরদারি ব্যবস্থায় যেতে প্রস্তুত। এতে উত্তেজনা কমবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়াটা ইরানের জন্য ‘মর্যাদা ও গর্বের’ বিষয়।
তিনি বলেন, ইরানি বিজ্ঞানীরা নিজেরাই এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন এবং এর জন্য দেশটিকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ইরানি বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড এবং গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কথাও উল্লেখ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে কর্মসূচি পরিচালিত হওয়ায় এটি বন্ধ করার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি আরও বলেন, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির সদস্য হিসেবে ইরান সংস্থাটির সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের রয়েছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে আলোচনার ‘সংবেদনশীল বিষয়’ উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, দুই পক্ষই একে অপরের অবস্থান জানে এবং সমাধান সম্ভব।
এমআর-২