দিন-রাত ভরে স্কেভেটর দিয়ে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ট্রাক্টর যোগে ইট ভাটায় নেওয়ার মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। মাটি বহনকৃত অন্তত ১০ টি ট্রাক্টর অবিরাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ওই এলাকার ফসলি মাঠ ও রাস্তাগুলোয়। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে আবাদী জমি অন্যদিকে বেহাল হচ্ছে সদ্য নির্মিত পাকা সড়কগুলো।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দপুর পর্যন্ত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অরনকোলার বাগবাড়িয়া মাঠপাড়া ও মুলাডুলির প্রতিরাজপুর এলাকায় গিয়ে কয়েকটি স্থানে অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমিতে পুকুর খননের নামে মাটি কাটার মহোৎসবের এসব চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুর খননের নামে তিন থেকে চার ফুট গভীর করে সরিষার জমি থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটিগুলো অন্তত ১০ টি ট্রাক্টরযোগে পার্শ্ববর্তী ইটভাটাগুলোতে নেওয়া হচ্ছে। প্রচন্ড ধুলা ও তীব্র শব্দে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্কেভেটর (ভেকু) চালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও ট্রাক্টর চালকরা জানান, মাটি কাটার জন্য ঈশ্বরদীর অরনকোলা গরুহাট এলাকার মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম তাদের ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন। ঘন্টা ও দিন চুক্তিতে মাটি কাটা ও ট্রাক্টর যোগে ইট ভাটাসহ মাটি ক্রেতাদের চাহিদাকৃত নির্ধারিত স্থানে পৌছে দেওয়ায় তাদের কাজ।
এ বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, জমিটির মালিক উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারি এলাকার জহুরুল ইসলাম। তিনিই তার জমিতে পুকুর খননের জন্য বিশেষ চুক্তিতে তাকে দিয়ে মাটি কাটাচ্ছেন। সেই মাটি তিনি নিকটবর্তী ইটভাটায় বিক্রয় করছেন। ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রয় করার জন্য প্রশাসনের নিকট থেকে কোন অনুমতি তিনি নেননি। আবার জমির মালিক জহুরুল ইসলাম প্রশাসনের নিকট থেকে অনুমতি নিয়েছেন কিনা তা তিনি জানেন না। তবে সব কিছু ম্যানেজ করেই মাটি কাটছেন বলেও দাবী করেন মাটির এই ব্যবসায়ী।
মাটি ক্রেতা একটি ইটভাটার মালিক জিন্নাহ আলী জানান, ইট নির্মাণের জন্য মাটির প্রয়োজন। তাই মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুলের নিকট থেকে মাটি কেনা হয়েছে। সেই মাটি ট্রাক্টরযোগে ইটভাটায় আনা হচ্ছে। কিভাবে, কার মাটি আশরাফুল কেটে বিক্রয় করছে তা তাদের জানা নেই বলেও দাবী করেন ইটভাটার মালিকরা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মমিন বলেন, কৃষি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করা মানে জমির শ্রেনী পরিবর্তন করা। আর জমির শ্রেনীর পরিবর্তনের জন্য জমির মালিককে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে হয়। জেলা প্রশাসক যদি অনুমতি দেন তাহলেই কেবল জমি মাটি কাটা সম্ভব। তিনি আরো জানান, জমির উপরিভাগের (টপ সয়েল) মাটিই হলো ফসল উৎপাদন শক্তি। জমির উপরিভাগের মাটি কাটা হলে সেই জমিতে নতুন করে ফসল উৎপাদন করতে হলে কম পক্ষে ২০ বছর সময় লাগে। ফসলি জমির মাটি কাটা আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। এভাবে মাটি কাটার কারণেই ক্রমেই আবাদি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে। এই জন্য জমির মালিকদের বিশেষভাবে সচেতন হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে বিভিন্নভাবে জমির মালিক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোঃ আরিফুর রহমান জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এসআর