রাজবাড়ীর সোনাপুর হাটের ইজারার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেই আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গরুর হাটে রহিম মণ্ডল ও শোভন বিশ্বাস গ্রুপের মধ্যে হাটের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শোভন গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথমে রহিমের ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি জানতে পেরে রহিম গ্রুপের লোকজন পাল্টা ধাওয়া দিলে শোভন গ্রুপের সদস্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
রহিম মণ্ডল সোনাপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার ওয়াজেদ আলীর ছেলে এবং শোভন বিশ্বাস একই এলাকার মো. গফুর বিশ্বাসের ছেলে।
এ ঘটনায় রহিম মণ্ডলের চাচি মোছা. সাজেদা বেগম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, শোভন বিশ্বাসের চাচি মোছা. মমতাজ আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত করে পাল্টা মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী রহিম মণ্ডল বলেন, "বৃহস্পতিবার বিকেলে আমি হাটের ইজারার টাকা শোভনের কাছে চাইলে সে প্রথমে অকথ্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে। পরে আমার ওপর দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হলে তা 'মিসফায়ার' হওয়ায় আমি প্রাণে বেঁচে যাই। এখনো শোভন ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।"
রহিম আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা শোভন এখনো এলাকায় সক্রিয়। হেলাল নামের একজন তাঁর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করলেও পুলিশ তা উদ্ধার না করায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে শোভন বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, "সেদিন যা ঘটেছিল তা সিসিটিভি ক্যামেরায় আছে, সেখান থেকেই দেখে নিন।" তবে তিনি দেশীয় অস্ত্রের কথা স্বীকার করলেও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রব তালুকদার বলেন, "হাটের ইজারার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছি। ধারণা করা হচ্ছে, উভয় পক্ষই বর্তমানে এলাকাছাড়া।"
এনআই