বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো বাহরাইনস্থ জাতিসংঘের কার্যালয় ও আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাহরাইনের আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বাহরাইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ স্কুল ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন King Hamad Global Center for Peaceful Coexistence-এর নির্বাহী পরিচালক মুনীরা নাওফল আল-দোসেরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আরব ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. নাজমা ত্বাকী এবং বাহরাইনে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি খালিদ আল-মিকওয়াদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন Bahrain Authority for Culture and Antiquities-এর ডাইরেক্টর জেনারেল মিস ফারাহ মোহাম্মদ মাততারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত এবং UNESCO কর্তৃক প্রেরিত ভিডিও বার্তা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সকল ভাষার সংরক্ষণ ও চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় কবিতা আবৃত্তি। চীন, মিশর, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, লেবানন, মালয়েশিয়া, নেপাল, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা তাদের ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করে বহুভাষিক সংস্কৃতির এক অনন্য আবহ তৈরি করেন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপের বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে আগত কয়েকজন বিদেশি অতিথিকেও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।
শেষ পর্বে রাষ্ট্রদূত অতিথিদের নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে বাহরাইনের প্রায় ১১টি স্কুলের ৭২টি চিত্রকর্ম স্থান পায়।
ইখা