চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিস খরচের নামে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আমমোক্তার, বিনিময়, বণ্টন, দানের ঘোষণা, হেবা, বিলওয়াজ হেবা, অছিয়তনামাসহ বিভিন্ন ধরনের দলিল নিবন্ধনে সরকারি নির্ধারিত খরচ ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। দলিল নিবন্ধন, তল্লাশি, নকল উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
কিছু ভুক্তভোগীর দাবি, সাব-রেজিস্ট্রারের চাহিদামতো অর্থ পরিশোধ না করলে দলিল সম্পাদনে বিলম্ব করা হয়। বিকেল চারটার পর দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কাজে অফিসের এক কর্মচারীর সম্পৃক্ততার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেরিতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকেলের পর নিবন্ধন সম্পন্ন করতে ‘লেট ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।
কিছু দলিল লেখকের অভিযোগ, অফিস খরচ নিয়ে সমঝোতা হলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়। আবার দাবি করা হয়, বিএস খতিয়ানের স্বাক্ষরিত কপি না থাকলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।
উপজেলায় বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার দলিল নিবন্ধিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগকারীদের ধারণা, প্রতি দলিলে গড়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন জানান, একটি নিবন্ধিত দলিলের নকল তুলতে গিয়ে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৬৫০ টাকা দিতে হয়েছে।
সেলিম উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বয়নানামা করতে গেলে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা অফিস খরচ দাবি করা হয়। পরে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দলিল সম্পন্ন করতে হয়েছে বলে তিনি জানান।
আমিরাবাদ ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদ ও পদুয়া ইউনিয়নের জাহেদুল ইসলামও সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আধুনগর সাব-রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। যারা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই প্রকৃতপক্ষে অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।”
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ইখা