পবিত্র রমজান মাস এলেই মুসলমানদের জীবনে এক অনন্য আমেজ তৈরি হয়। সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতার করার আনন্দই আলাদা। এ উপলক্ষে রোজার প্রথম দিন থেকেই পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জমে উঠেছে ইফতার বাজার।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে বসেছে ইফতারসামগ্রী বেচাকেনার স্টল। প্রতিদিনই বিকেল থেকে ইফতারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক আর ক্রেতাদের ক্রয় উৎসবে জমজমাট হয়ে উঠেছে ইফতার বাজারগুলো। ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ডালপুরি, হালিম, মুড়িমাখা, খেজুর, শরবত, মাঠা, জিলাপিসহ নানা ধরনের ইফতারসামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর বাজার, কলেজ পাড়া মোড়, স্টেশন বাজার, ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড, বকুলতলাসহ ইফতার সামগ্রীর দোকানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রকমারি খাবাবের সুগন্ধে ভরে উঠেছে চারপাশ। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার হোটেল থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হতে হচ্ছে ইফতার সামগ্রী।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইফতার বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোজার প্রথম দিন থেকেই ফলের প্রতিও মানুষের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ধরনের খেজুর, তরমুজ, মালটা, কলা, আপেলসহ বিভিন্ন ফলের চাহিদা বেশি। ছোট-বড় বেগুনি ৫ থেকে ১০ টাকা, পেঁয়াজু ৫ থেকে ১০ টাকা, আলুর চপ ৫ টাকা, সবজি চপ ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত, ডিমের চপ ১৫ টাকা এবং জিলাপি রকম ভেদে ১২০ থেকে শুরু করে ১৪০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খেজুর, আপেল, মালটা, তরমুজ ও কলার দাম প্রথম রমজানের তুলনায় বর্তমানে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকৃতির তরমুজ কিনতেও লাগছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার কলেজ পাড়া মোড়ে ইফতার সামগ্রী কিনতে আসা ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান আল-কাদরী বলেন, বাসায় ইফতার বানানো হলেও বাইরে থেকে ইফতার না নিলে, মনে হয় কিছু একটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আবার এ বছর ইফতারের দামও কিছুটা কম বলে মনে হয়েছে তার কাছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা চির-কুমার সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেলিম রেজা মাষ্টার বলেন, ইফতারের জন্য এলাকার দোকানের ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের মতো ব্যাচেলরদের। আমাদের তো ইফতার বানানোর লোক নাই। তাই প্রত্যেক দিন বাজারে ইফতার কিনতে আসি।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার ইফতার বিক্রেতা বাবু হোসেন শাহ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমি প্রতিবছরই ইফতার বিক্রি করি। বেগুনি, আলুর চপ ও পেঁয়াজু বেশি বিক্রি হয়। আলুর চপ, পিয়াজু, বেগুনি, ছোলা, বুন্দি, জিলাপি, হালিমসহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী এখানেই তৈরি করে বিক্রি করছি। রোজার প্রথম দিন থেকেই ব্যাপকভাবে ইফতারি ক্রয়ে ভিড় জমায় ক্রেতারা। গত রোজায় অনেক ইফতার সামগ্রী ক্রেতার অভাবে অবিক্রিত থাকলেও এবার তা থাকছে না।
পিএম