প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে সরকারি দপ্তরে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বরিশালের গৌরনদী উপজেলা কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে অধিকাংশ অফিস বন্ধ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গৌরনদী উপজেলা পরিষদের একাধিক দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে টানা ৪০ মিনিট সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার কথা। যাতে সেবা নিতে এসে কেউ হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন এমন নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।
যেসব দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, পিআইও অফিস, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ আরও কয়েকটি দপ্তর।
তবে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে উপজেলার এলজিইডি কার্যালয়ে। সেখানে প্রকৌশলী অহিদুর রহমানকে সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ করতে দেখা যায়।
অন্যান্য অনেক কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া না গেলেও যাদের পাওয়া গেছে, তাদের মাধ্যমে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের কাজও সম্পন্ন হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসের নাজির সাইদুল ইসলাম সাঈদের সঙ্গে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কথা হলে তিনি বলেন, “স্যার এখনো অফিসে আসেননি, হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন।”
পিআইও অফিসের এক অফিস সহায়ক, মৎস্য অফিসের মাঠ সহকারী খাদিজা এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মচারী আয়া নাসিমাও একই ধরনের কথা জানান।
এদিকে আইসিটি কর্মকর্তাকে নৈমিত্তিক ছুটিতে থাকায় তাকেও অফিসে পাওয়া যায়নি।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী তারা সকাল ৯টার মধ্যেই অফিসে এসেছেন যাতে দ্রুত কাজ শেষ করে ফিরতে পারেন।
এ বিষয়ে শেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধনের আবেদনের সুপারিশ নিতে এসেছি। এরপর আমাকে বরিশাল যেতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেবা না পেলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”
এদিকে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিম হোসেনও নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ইখা