আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনকে বিজয়ী করতে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতভেদ ভুলে একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ডা. লিটনের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ধানের শীষের পক্ষে একযোগে মাঠে কাজ করছেন।
উপজেলা বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, শিক্ষিত ও জনবান্ধব প্রার্থী হিসেবে ডা. লিটন দলের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছেন। তাঁদের ভাষ্য, ‘দলের ভেতরে এখন আর কোনো গ্রুপ নেই—সবাই এক গ্রুপ, তা হলো ধানের শীষ।’
নির্বাচনী প্রচারণায় ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন উন্নয়নভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে—ত্রিশালের শিল্পাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য পরিবহনে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি শান্ত ত্রিশাল গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
দলীয় নেতারা বলছেন, জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ডা. লিটন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে তার সেবাধর্মী ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ত্রিশালের স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই ঐক্য যদি ভোটের দিন পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে ময়মনসিংহ-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হবে। ধানের শীষের পক্ষে যে সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসমর্থনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তা আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইখা