দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে সাতক্ষীরাবাসীর। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ জেলা হিসেবে এতদিন রেল যোগাযোগের বাইরে থাকা সাতক্ষীরা এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কে। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগে জেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নাভারন-ভোমরা রেলপথ নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পের বড় অংশের অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট, জমি চিহ্নিতকরণ এবং ছয়টি স্টেশন নির্ধারণসহ প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই রেলপথে নাভারন, কলারোয়া, মাধবকাঠি, সাতক্ষীরা সদর এবং ভোমরা স্থলবন্দরসহ মোট ছয়টি আধুনিক স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
রেললাইন চালু হলে যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন সহজ হবে, তেমনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি পাবে নতুন গতি। হিমসাগর আম, রফতানিযোগ্য হিমায়িত চিংড়ি, সুন্দরবনের মধু ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জন্য পরিচিত সাতক্ষীরা জেলার কৃষি, শিল্প, পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের সঙ্গে রেলের সম্পর্ক নতুন নয়। ১৮৬২ সালে দর্শনা-জগতি রেললাইন দিয়ে বাংলায় রেলযাত্রার সূচনা হলেও সাতক্ষীরা এতদিন সেই ইতিহাসের বাইরে ছিল। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ আমলে নাভারন হয়ে সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন পর্যন্ত রেল সংযোগের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
দীর্ঘ দেড় শতাব্দী পর সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে এবং রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত ৪৪টি জেলা। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন করে আরও ১৫টি জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাভারন-ভোমরা রেলপথ সেই পরিকল্পনার অন্যতম উদাহরণ।
ভোমরা কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হাসান বলেন, “নাভারন-সাতক্ষীরা-ভোমরা রেলপথ শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়, এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানোর ঐতিহাসিক উদ্যোগ।”
কলারোয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আফিয়া বলেন, “বর্তমানে যাতায়াতে সময় ও ভোগান্তি বেশি। রেললাইন চালু হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য যাতায়াত সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হবে।”
ভোমরা স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা জানান, রেল যোগাযোগ চালু হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে, পণ্য পরিবহন সহজ হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
বেনাপোল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, জমি নির্ধারণ, সয়েল টেস্ট এবং স্টেশন পরিকল্পনার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নাভারনে একটি আন্তঃনগর মানের রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
ইখা