এইমাত্র
  • মিরপুরে বহুতল ভবনে আগুন
  • হান্নান মাসউদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ
  • বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকার খোঁজ নিচ্ছেন তারেক রহমান
  • অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দিচ্ছেন
  • জামায়াতের হামলায় বিএনপি নেতার চোখ নষ্ট হওয়ার খবরে মায়ের মৃত্যু
  • নির্বাচনে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৭০: আইজিপি
  • ভোট কারচুপির চেষ্টা হলে জনগণ অধিকার আদায়ে দাঁড়িয়ে যাবে: জামায়াত আমির
  • ধানের শীষকে সমর্থন দিলেন ইসলামী নেতৃবৃন্দ
  • যে কেন্দ্রে ভোট দেবেন জাইমা রহমান
  • রাজনৈতিক সহিংসতায় ৪০ দিনে নিহত ১৩ : আসক
  • আজ বুধবার, ২৮ মাঘ, ১৪৩২ | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    শিক্ষাঙ্গন

    গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’: বাকৃবিতে বিভক্ত মত, তর্ক-বিতর্কে মুখর ক্যাম্পাস

    মো. রিয়াজ হোসাইন, বাকৃ‌বি প্রতি‌নি‌ধি প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম
    মো. রিয়াজ হোসাইন, বাকৃ‌বি প্রতি‌নি‌ধি প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম

    গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’: বাকৃবিতে বিভক্ত মত, তর্ক-বিতর্কে মুখর ক্যাম্পাস

    মো. রিয়াজ হোসাইন, বাকৃ‌বি প্রতি‌নি‌ধি প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার–সংক্রান্ত চারটি প্রশ্নে মত দেবেন। এই গণভোটকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসেও চলছে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়। শিক্ষার্থীদের একাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে সময়ের দাবি বলছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ পুরো প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন।


    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চব্বিশের গণ-আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। গণভোটে চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং বিরোধী দল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।


    বাকৃবির একাংশ শিক্ষার্থীর মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জনগণের মালিকানা ও ক্ষমতার ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. বেলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ নির্যাতন ও ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই দুঃসময় ভাঙলেও প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে, যখন জনগণের অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত হবে। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সরকারি ক্ষমতা সীমিত হবে, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে।


    একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম মনে করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পারিবারিক রাজনীতি ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার অবসানের পথে এগিয়ে যাওয়া। তার ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ—এই ধারণাকে শক্তিশালী করতেই তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।


    তবে শিক্ষার্থীদের সবাই যে গণভোটের পক্ষে, তা নয়। এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা নাবিলা পুরো প্রক্রিয়াটিকে অগণতান্ত্রিক বলে মনে করছেন। তার অভিযোগ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্নমত দিয়েছিল, সেগুলো উপেক্ষা করেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চারটি প্রশ্নকে একটি প্যাকেজে বেঁধে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। কারও একটি প্রশ্নে আপত্তি থাকলেও তা আলাদা করে জানানোর সুযোগ নেই—এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করেন তিনি।


    অন্যদিকে কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রেদোয়ান আহমেদ গণভোটকে ‘বৈপ্লবিক উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় মানে ক্ষমতার একচেটিয়া দখল ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। এতে রাষ্ট্র আরও দায়বদ্ধ হবে, বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়বে এবং সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা তার।


    একই অনুষদের শিক্ষার্থী মো. সালমান বলেন, চব্বিশের গণ-আন্দোলন হয়েছিল স্বৈরাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। সেই অর্জন টেকসই করতে হলে স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে।


    সব মিলিয়ে গণভোটকে ঘিরে বাকৃবি ক্যাম্পাসে স্পষ্টভাবে দুই ধরনের মত দেখা যাচ্ছে। কেউ একে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটিকে অগণতান্ত্রিক বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন পথে দেশকে এগিয়ে নেবে—সেই অপেক্ষাতেই এখন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…