পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ব্যবসায়ীর মুকুলভরা লিচু বাগানের বড় তিনটি ডাল কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলাল হোসেন নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে ওই ব্যবসায়ীর প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জয়নগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৫টার দিকে ওই ব্যবসায়ী নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মেহেদী হাসান তারেক। তিনি উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা ও ‘মরিয়ম এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস’-এর স্বত্বাধিকারী। এ ঘটনায় তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ব্যবসায়ী তারেকের এক বিঘা জমির ওপর প্রায় ৫০টি গাছ নিয়ে একটি লিচু বাগান রয়েছে। সেই বাগানের পাশেই মুরগির খামার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছেন প্রভাবশালী মুনসের মাস্টার ও তার ছেলে আলাল। জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে তারা বিভিন্ন সময় ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছিলেন। আজ মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ মুনসের মাস্টার ও আলাল হোসেন—তারেকের জমির লিচু গাছের ডাল তাদের খামারের ওপর ছড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ তোলেন। এরপর মালিককে না জানিয়েই কামাল নামে স্থানীয় এক খড়ি ব্যবসায়ীর কাছে মুকুলভরা তিনটি বড় ডাল সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। বিষয়টি নজরে এলে তারেক প্রতিবাদ করলে তারা মারমুখী আচরণ শুরু করেন। ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনুমতি ছাড়া জোরপূর্বক মুরগির খামার স্থাপন করে খামারের সব বর্জ্য ওই লিচু বাগানে ফেলা হচ্ছে।
মেহেদী হাসান তারেক বলেন, “প্রতিটি গাছের ডালে ডালে মুকুল এসেছে। যে তিনটি ডাল কাটা হয়েছে, তাতে প্রায় ১৫ হাজার লিচু ধরত; যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তারা প্রভাব খাটিয়ে অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। আমি থানায় অভিযোগ দিচ্ছি।”
ডাল কিনে নেওয়া খড়ি ব্যবসায়ী কামাল বলেন, “আলাল হোসেন ও তার বাবা মুনসের মাস্টার তাদের বাগান বলে আমার কাছে ডালগুলো বিক্রি করেছেন। আমি সেগুলো কিনে নিয়েছি। এখন শুনছি এটা অন্য মানুষের বাগান। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গাছের ডালগুলো আমার খামারের টিনের ওপর থাকায় পর্যাপ্ত রোদ আসত না এবং টিন নষ্ট হচ্ছিল। তাদের একাধিকবার বললেও তারা কোনো কর্ণপাত না করায় আমি নিজ উদ্যোগে ডাল কেটেছি। তবে বিক্রির বিষয়টি সত্য নয়।”
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই এবং কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি। ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এনআই