আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রাকে চেপে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মোটরসাইকেলের চাপ বেড়ে যেতে শুরু করে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ চাপ দৃশ্যমান ছিল।
পদ্মা সেতুর সাইডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, সেতুর টোল প্লাজায় মূলত মোটরসাইকেলের চাপ বেশি থাকে। দুপুরের দিকে চাপ বৃদ্ধি পায়, বিকেলের দিকে তা কমে আসে।
এদিকে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস চলাচলের অভাব দক্ষিনবঙ্গের যাত্রীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। দুপুর থেকে পদ্মা সেতু উত্তর থানার এলাকায় অনেক যাত্রী বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাকে চেপে গন্তব্যে রওনা দিয়েছেন। মাওয়াপ্রান্ত থেকে পদ্মা সেতু পারাপারে ট্রাকে ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা।
পদ্মা সেতু উত্তর থানার কাছে কথা হয় যাত্রী আব্দুস সালামের সঙ্গে। তিনি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার পশ্চিম কলা দয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে লৌহজং উপজেলার হলদিয়ায় বসবাস করেন। ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে তিনি বলেন, দুপুর থেকে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। এখনও কোনো বাস পাইনি। পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার ঝাটুকাঠি গ্রামের মো. নাঈম হোসেন বলেন, আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ঢাকা থেকে মাওয়ায় এসেছি। এখানে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। জানি না কখন বাস পাবো।
মো. ইয়ামিন হোসেন আরও বলেন, আমি ভাঙ্গা যাবো। কিন্তু রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে চড়ে পদ্মা সেতু পার হতে হচ্ছে। এর জন্য ২০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের জন্য যাতায়াত সত্যিই দুর্ভোগের। সরকারের উচিত অতিরিক্ত গাড়ি যোগ করে আমাদের নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা।
এমআর-২