কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। ধানের শীষের সাংগঠনিক শক্তি, দাঁড়িপাল্লার সুশৃঙ্খল ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ‘তালা’ প্রতীকের ব্যক্তিগত আবেদন—সব মিলিয়ে এই সংসদীয় আসনটি এখন জমজমাট যুদ্ধের অপেক্ষায়।
এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তিন প্রার্থীর মধ্যে। তারা হলেন—বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা।
হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে হোমনায় ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এবং তিতাসের ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭৭৭ জন।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত দুই প্রার্থীই অন্য উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় শুরু থেকেই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
জানা গেছে, দলীয় কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করায় বিএনপির একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খানের পক্ষে মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দলের বেশ কয়েকজন সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় সক্রিয় হয়েছেন। এতে বিএনপি প্রার্থীর ভোটব্যাংকে বড় ধসের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী রেহানা বেগম (৪০,২৭৭ ভোট) ও এ কে এম সিদ্দিকুর রহমান আবুলের (১৫,২৩০ ভোট) মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৫ হাজার। অন্যদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ২১,০৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। যদিও বিএনপি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তবুও সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এতে প্রতীয়মান হয় যে, স্থানীয় ভোটাররা কেবল দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকেও সমান প্রাধান্য দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা-২ আসনের ভোটাররা এবার ‘নিরাপদ’ প্রার্থীকেই বেছে নিতে আগ্রহী। এই আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় প্রার্থী না থাকায় ওই দলের বিশাল একটি ভোটব্যাংক এখন মূল নিয়ামক শক্তি (ডিসাইডিং ফ্যাক্টর) হিসেবে কাজ করছে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকলেও বড় একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে যে প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, দিনশেষে তিনিই বিজয়ের হাসি হাসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এনআই