বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বিএনপি। স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ধানের শীষ প্রতীকের ঐতিহাসিক বিজয় হয়েছে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১,০২,১৯৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮২,৮৭৭ ভোট। ১৯,৩১৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
ঐতিহাসিকভাবে বাগেরহাট-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি একবার জয় পেলেও দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের আধিপত্য ছিল অটুট।
নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও মোংলা বন্দর শ্রমিকদের ভোটই এই জয়ের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। মানবিক গুণাবলি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ২০০৯ সাল থেকে তিনি ছয় সহস্রাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দিয়েছেন। বিশেষ করে মোংলার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মোস্তাফিজ ও শিশু রোকাইয়ার সফল অস্ত্রোপচারের বিষয়টি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর বিশেষ স্থান করে দিয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২,৬৬,৮৬৪ জন। ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার মোট ভোট পড়েছে ১,৮৯,৪৫১টি। নির্বাচনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য (বহিষ্কৃত) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।
জয়ের পর লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমি রামপাল-মোংলার আপামর জনতার প্রতি কৃতজ্ঞ। মানুষ আমার ওপর এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের কর্মপরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখেছেন। আগামীতে এই জনপদের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
এনআই