ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পোকার কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে টানা ৯০ দিন (তিন মাস) অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম রাজেন্দ্র দেবনাথ; তিনি ওই হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে এমন দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স দেখে হতবাক হয়েছেন রোগী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গৌরীপুর পৌর শহরের বালুয়াপাড়া মহল্লার বাসিন্দা হলি সিয়াম শ্রাবণ গলায় ‘গান্ধিপোকা’র কামড়জনিত ব্যথা ও ফুসকুড়ি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজেন্দ্র দেবনাথ তাঁকে পর্যবেক্ষণ করে ‘Cefotil Plus 250’ নামক অ্যান্টিবায়োটিকসহ মোট পাঁচটি ওষুধ লিখে দেন। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময়কাল হিসেবে তিনি ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্রিপশনে) স্পষ্ট করে ‘৯০ দিন’ উল্লেখ করেন। সাধারণত এ ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স ৭ থেকে ১৪ দিনের হয়ে থাকে।
ভুক্তভোগী হলি সিয়াম শ্রাবণ বলেন, “ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর আমি সেটি নিয়ে যখন ফার্মেসিতে যাই, তখন ওষুধের মেয়াদের বিষয়টি দেখে আমার সন্দেহ হয়। সাধারণ একটি পোকার কামড়ে ৯০ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক দেখে আমি ঘাবড়ে যাই। জীবনঝুঁকির কথা চিন্তা করে আমি আর ওই ওষুধ না কিনে একজন মেডিসিন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হই। তিনি আমার গলা দেখে নতুন করে চিকিৎসা ও অল্প দিনের ওষুধের কোর্স দেন।”
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কারণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন রোগীর শরীরের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এতে লিভার ও কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শরীরে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হতে পারে; যার ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ অসুখেও কোনো ওষুধ কাজ করবে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক রাজেন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমার যতদূর মনে পড়ে আমি ৭ দিন লিখেছিলাম। যদি সেখানে ৯০ দিন উল্লেখ হয়ে থাকে, তবে সেটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। তবে বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেই ভালো হতো। এক পর্যায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভুক্তভোগী কে—তাকে খুঁজে বের করতেছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর ভাট জানান, "অসাবধানতাবশত প্রেসক্রিপশনে দিনের সংখ্যাটি লিখতে ভুল হতে পারে। প্রচুর রোগীর চাপের কারণে অনেক সময় এমন ভুল হয়ে যায়।”
এনআই