ঝালকাঠির নলছিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কারাবন্দী এক নেতা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তার বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। এ সময় তিনি পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় ছিলেন। ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর (২৫)। তিনি উপজেলা সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাবা মোশাররফ জোমাদ্দরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নিতে স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান রাকিবুল। জানাজায় পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় অংশ নেন ছাত্রলীগ নেতা রাকিব। পরে নির্ধারিত সময় শেষে রাতে পুলিশি পাহারায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে আছেন রাকিবুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে তার বাবার মৃত্যু হলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হয়।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে স্বল্প সময়ের জন্য মুক্তির অনুমোদন মেলে ছাত্রলীগ নেতার। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। রাকিবুল বাবার জানাজায় অংশ নিতে বাড়ি এলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, জানাজার সময় রাকিবুলের পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় ছিল। তবে হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল না। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, পরিবারের আবেদনের পর প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে রাকিবুলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পুরো সময় তিনি পুলিশি পাহারায় ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানাজার সময়ও আসামিকে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় রাখা প্রসঙ্গে ওসি জানান, ১২ ঘণ্টার বেশি প্যারোলে মুক্তি দিয়ে আসামিকে বাইরে রাখার সুযোগ নেই। পুলিশ যে অবস্থায় কারাগার থেকে আসামিকে বুঝে পাবে, আবার সেই অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আসামিকে বুঝিয়ে দেবে। তাই ডান্ডাবেড়ি খোলার সুযোগ নেই।
নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীক রহমান সরদার বলেন, ‘একজন সন্তানের জন্য পিতৃবিয়োগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন পরিস্থিতিতে প্যারোলে এসে জানাজায় অংশ নেওয়াটা নিঃসন্দেহে আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা রাকিবুলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’
ইখা