টাঙ্গাইলের নাগরপুরে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে এক ভূমি অফিস কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করে শারীরিক লাঞ্ছনা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাগরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এটি মামলা নং-১৬, তারিখ: ২৫/০২/২০২৬ হিসেবে রুজু হয়েছে।
নাগরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্য থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— রানা (২১), দুয়াজানি গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. সাজ্জাদ (২২), বাবনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নাগরপুর বাজার এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় সিএনজি শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
ওইদিন ভূমি অফিসের এক কর্মচারী রিকশাযোগে অফিসে যাওয়ার পথে রাজিয়া কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে তাকে রাজিয়া কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে অবরুদ্ধ রাখা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নাগরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সময় সরকারি পিকআপে তোলার মুহূর্তে লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ওই কর্মচারী আহত হন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ ও আনসার সদস্যও আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলায় উল্লেখিত ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন—মো. সোহেল মিয়া (২৩), শরীফ (৩৫), কালু (৩৬), রুবেল (৩৬), রহমান (৪০), রাহাত (২২), শামসুল (৫৫), রাকিব (৩০), মো. মানিক (৩৮), এস.এম স্বজন মাহমুদ (৩১), রাজু (১৯), মো. শহিদুর রহমান মনির (৩৪) এবং মো. সাদেক মিয়া (৩৮) সহ অন্যান্যরা।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুরাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এফএস