কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সেচের পানি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সেচযন্ত্র মালিকের বিরুদ্ধে। এতে চাষাবাদ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন একটি কৃষক পরিবার। এ ঘটনায় জমির মালিক এরশাদুল হক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সেচযন্ত্র মালিক মজিবর রহমান ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সংশ্লিষ্ট জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখেন। ফলে জমি চাষের উপযোগী থাকা সত্ত্বেও ধান রোপণ করা সম্ভব হয়নি এবং প্রায় এক একর জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগী এরশাদুল হক জানান, হাতিয়া ইউনিয়নের রামরামপুর মৌজায় বাড়ির পেছনে তাদের প্রায় এক একর পৈত্রিক জমি রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর ৩৪ শতক, বড় বোন গোলাপী বেগমের ২০ শতক, ছোট বোন রিপুনা খাতুনের ৩০ শতক এবং বাবা গোলজার হোসেনের ১৬ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে ধান ও সবজি আবাদ হয়ে আসছে। প্রতি বছর বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হলেও এবার পানি না পাওয়ায় পুরো জমি অনাবাদি পড়ে আছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি সেচ নীতিমালা উপেক্ষা করে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি শতক ১০০ টাকা বা তার বেশি হারে অর্থ আদায় করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে দয়াল হোসেন নামের এক কৃষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যে স্থানে সেচযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে তা মজিবর রহমানের নিজস্ব জমি নয় এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করে তিনি সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সেচযন্ত্র মালিক মজিবর রহমান বলেন, জনবল সংকট ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে এবার সংশ্লিষ্ট জমিতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইখা