সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কংগ্রেসের একটি কমিটিকে জানিয়েছেন, জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। একই সঙ্গে তিনি আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, এ বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শপথের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য।
এপস্টেইনকাণ্ড তদন্তে গঠিত হাউজ ওভারসাইট কমিটির সামনে কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্ধ দরজার বৈঠকে সাক্ষ্য দেন হিলারি ক্লিনটন। সাক্ষ্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি চাই সত্য প্রকাশিত হোক।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার সাক্ষ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি, ফলে তাকে বাইরে এসে তা ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনট শুক্রবার কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন। শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সমনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তবে কংগ্রেস অবমাননার প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা দেখা দিলে তারা সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।
ক্লিনটন দম্পতি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—তিনজনই এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হিলারি ক্লিনটন বলেন, কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার তদন্তের প্রকৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন এবং তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন—যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির রিপাবলিকান সদস্যরা অন্য যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, তাদের কাউকেই এপস্টেইন বা তার দণ্ডিত সহযোগী সম্পর্কে প্রশ্ন করেননি।
বিল ক্লিনটন আগেই বলেছেন, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান ছিল না এবং প্রায় দুই দশক আগে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর দাতব্য কাজের সূত্রে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক সিটির একটি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।
শুনানির আগে নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় নিজ বাসভবনের কাছে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পূর্বে হিলারি ক্লিনটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি কখনো এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি বলে মনে পড়ে না। তার ব্যক্তিগত বিমান, দ্বীপ, বাড়ি বা কার্যালয়ে আমি কখনো যাইনি। এ বিষয়ে আমার আর কিছু যোগ করার নেই।
এইচএ