রাজশাহী চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নে জালসা ও মিলাদ মাহফিলের প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইউসুফপুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম এরশাদ আলী (৬৫)। তিনি সিপাইপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে এবং ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। তিনি স্থানীয় এমপি আবু সাইদ চাঁদের অনুসারী বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয়রা একটি জালসা ও মাহফিল আয়োজনের বিষয়ে মসজিদে আলোচনায় বসেন। সেখানে প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ জেলা বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান অতিথি করার প্রস্তাব দেন। অন্য পক্ষ নিহত এরশাদ আলীসহ কয়েকজন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদকে প্রধান অতিথি করার পক্ষে মত দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের তর্কাতর্কির একপর্যায়ে বৈঠক ভেঙে যায়।
পরে রাত নয়টার দিকে তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এরশাদ আলীর পথরোধ করা হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাঁকে পেয়ারা গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে প্রায় আড়াই মাস আগে একই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মাহফিল স্থগিত হয়েছিল। সে সময় সংঘর্ষে চারজন আহত হন এবং একটি মামলাও দায়ের করা হয়।
চারঘাট থানার কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পরই
পালিয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। আর নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) এর মর্গে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলাও হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এসআর