সুন্দরবনে জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তিপণের টাকা দিয়েও ছাড়া পাননি তিন জেলে। অবশেষে দস্যুদের দুই গ্রুপের গোলাগুলির সুযোগে জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পাথরঘাটায় ফিরেছেন তাঁরা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
ফিরে আসা জেলেরা হলেন—পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামের রাজু মিয়া (২৬), মো. মাহবুব (৩০) ও মো. রাজু মোল্লা (২৭)।
জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের কটকা এলাকার হৌলি খাল থেকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের মাসুম মাঝির ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সদস্যরা। একদিন পর আল আমিন ও আবদুর রহিম নামে দুই জেলেকে মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা নিয়ে আসার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে ট্রলার মালিকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে দস্যুদের কাছে পাঠানো হলেও শর্ত অনুযায়ী বাকি তিন জেলেকে মুক্তি দেয়নি দস্যুরা। জিম্মি থাকা জেলেরা জানান, দস্যুরা তাঁদের ট্রলারের ব্রিজের মধ্যে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখত এবং মাঝেমধ্যে শারীরিক নির্যাতন করত।
পলায়নরত জেলেরা আরও বলেন, "দস্যুদের দুই গ্রুপের মধ্যে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে আমরা কৌশলে শিকলমুক্ত হয়ে বনের ভেতরে দিগ্বিদিক দৌড়াতে থাকি। পরে সুন্দরবনের খাল সাঁতরিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর একটি তেলবাহী জাহাজের নাবিক আমাদের উদ্ধার করে মোংলা বন্দর ঘাটে পৌঁছে দেন। সেখান থেকে আমরা পাথরঘাটায় ফিরে আসি।"
ট্রলার মালিক মো. মাসুম মিয়া বলেন, "টাকা পাঠানোর পরও দস্যুরা আমার জেলেদের ছাড়েনি। ফিরে আসা জেলেরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।"
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে দস্যুদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জেলেরা সাগরে যাওয়া বন্ধ করে দেবে।"
এনআই