টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটিবোঝাই একটি দ্রুতগামী ড্রামট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে ঢুকে পড়লে নাজিম উদ্দিন (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মতিয়ারা বেগমও গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আনুমানিক ৩ টার দিকে উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের পাঁচচামারী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজিম উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত মোকাদ্দেস আলীর ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে নাজিম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। উপজেলার চুকুরিয়া নদী তীরের মাটি কেটে ড্রামট্রাক দিয়ে পরিবহনের সময় কুড়ালিয়া পাড়া আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন নাজিম উদ্দিনের ঘরে ট্রাকটি তুলে দেন চালক। বিকট শব্দে স্ত্রী মতিয়ারা বেগমের ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন তাঁর স্বামী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে আছেন। পরিবারের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর ট্রাকের নিচ থেকে নাজিম উদ্দিনের মরদেহ এবং আহত অবস্থায় মতিয়ারা বেগমকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী মোকাদ্দেস আলী, তুষার ও পিন্টুসহ সংশ্লিষ্টরা নিহতের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। নিহতের মেয়ের জামাই সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ড্রামট্রাকের মালিক মোকাদ্দেস স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকীকে নিয়ে সকালে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। মীমাংসা না হওয়ায় তিনি হুমকি দিয়ে চলে যান।
নিহতের মেয়ে মহারাণী বলেন, "আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এভাবে যেন আর কাউকে বাবা হারা হতে না হয়।" এলাকাবাসীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও মাদকাসক্ত চালক দিয়ে গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা অবিলম্বে এই এলাকায় মাটির ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবি জানান।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাহাদুজ্জামান আকন্দ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক ড্রামট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এনআই