গাজীপুর সদর উপজেলায় তারাবির নামাজ পড়তে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজের এক দিন পর মাহবুব (১৪) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদরাসার পাশে একটি লিচুবাগান সংলগ্ন ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহবুব ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার দৌলতপুর গ্রামের সোহাগের ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে ভবানীপুর এলাকায় মোশারফ হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকত এবং স্থানীয় খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদরাসার নাজেরানা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় মাহবুব। রাত ৯টা বেজে গেলেও সে বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সারারাত সন্ধান না মেলায় উৎকণ্ঠায় কাটে পরিবারের। শনিবার সকালে স্থানীয়রা লিচুবাগানের পাশে একটি পোড়া মরদেহ দেখে পরিবারকে খবর দিলে তাঁরা এসে মাহবুবকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের বাবা সোহাগ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "তারাবির নামাজে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিল। রাত ৯টার দিকেও না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করি। সারারাত কোথাও ওর কোনো সন্ধান পাইনি। সকালে মানুষের কাছে খবর পেয়ে গিয়ে দেখি ঝোপের ভেতর আমার ছেলের পোড়া লাশ পড়ে আছে।"
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে আলামত নষ্ট করতে এখানে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারা এবং কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন।"
এনআই