নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি সামাজিক সংগঠনের ইফতার মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুনের হস্তক্ষেপে পুলিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন আয়োজকরা। তবে ওই বিএনপি নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে এসে মৌখিকভাবে ইফতার আয়োজন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি ছিল, সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
আয়োজক সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ‘হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার বাড়িওয়ালা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আলেম-ওলামাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ইউসুফ রশীদ বলেন, "এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সামাজিক উদ্যোগ। হঠাৎ পুলিশ এসে অনুষ্ঠান না করার কথা জানায়। পরে আমরা জানতে পারি, বিদ্যুৎ মামুনের পক্ষ থেকেই থানায় এই আপত্তি তোলা হয়েছে।"
থানায় অভিযোগকারী হিসেবে নাম আসা মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁর চাচা। চাচার কথামতোই তিনি অভিযোগপত্রটি জমা দিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে বিদ্যুৎ মামুনের মোবাইল নম্বরও দেওয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুন বলেন, "ইফতার মাহফিল বন্ধের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং সংগঠনের সভাপতি ইউসুফ রশীদ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং তিনি অবৈধভাবে সংগঠন দখল করে আছেন।" সম্ভাব্য সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার আশঙ্কা থাকায় হয়তো পরিস্থিতি এমন হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, মিজানুর রহমান নামে একজন লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, "তদন্তে দেখা গেছে এটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠান এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। তাই আয়োজকদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখন আর কোনো বাধা নেই।"
এনআই