শীতের শেষে বসন্তের আগমনে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা ছড়াচ্ছে শ্বেতশুভ্র সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল যেমন গ্রামীণ সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি এর পুষ্টিগুণও রয়েছে অপরিসীম।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে, রাস্তার পাশে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছ এখন সাদা ও হালকা হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে। এতে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোরম দৃশ্য। শুধু সৌন্দর্যই নয়, সজনে একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও ভেষজগুণসম্পন্ন উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমিতেও বিনা পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে সজনে গাছ। বসন্তের শুরুতেই এসব গাছে ফুটেছে অসংখ্য ফুল। কোথাও কোথাও সজনে ফুলের শুভ্রতায় প্রকৃতি যেন নতুন রূপ ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল-বিকেল হাঁটার সময় কিংবা সড়কে যাতায়াতের পথে সজনে ফুলের সৌন্দর্যে অনেকেই থমকে দাঁড়ান। গাছের নিচে ঝরে পড়া ফুল কুড়িয়ে নিতে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি মরিঙ্গাসি (Moringaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। খরা-সহিষ্ণু এ উদ্ভিদ সাধারণত গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে ভালো জন্মে। মাঝারি আকারের এই গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে।
তিনি জানান, সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং পাতা শাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও দেশে সাধারণত ডাল রোপণের মাধ্যমেই এর চাষ করা হয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, সজনে ফুলেও রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। এতে এমন উপাদান রয়েছে যা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ফুল, পাতা ও ফলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি-১, বি-২, বি-৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী উপাদান। সজনের ফল শরীরে প্রোটিনের জোগান দিতেও সহায়ক।
কৃষিবিদ কামাল উদ্দিন মোল্লা বলেন, “প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সজনে একটি অত্যন্ত উপকারী ভেষজ গাছ। এর ডাটা (ফল) পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং বাজারেও এর ভালো চাহিদা ও দাম রয়েছে। পাতা, ফুল ও ফল—সবকিছুই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।”
প্রকৃতির শোভা বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিগুণ ও ভেষজ বৈশিষ্ট্যের কারণে সজনে গাছ গ্রামীণ জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইখা