কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের আলোর মেলা এলাকা থেকে উম্মে সিজ্জিল ইফতি (২২) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সোমবার (০২ মার্চ) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী মুমতাজ মুকুলকে পুলিশ তাদের জিম্মায় নিয়েছে। এর আগে গতকাল রবিবার গভীর রাতে ওই নারীর মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূর উম্মে সিজ্জিল ইফতি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কিচমতকচুরি গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লি কলেজের প্রভাষক ও নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মুমতাজ মুকুলের স্ত্রী।
এদিকে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর তার স্বামী প্রভাষক মুমতাজ মুকুলের একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক ওয়ালে ইফতির উদ্দেশে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি। পোস্টে মুকুল লিখেন, ‘তোরে আমি ধরে রাখতি পারি নাই ভালো থেকো ওপারে জান আমার তোমার কাছে আমিও চলে আসবো জান।
পুলিশ জানায়, উম্মে সিজ্জিল ইফতি স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের আলোর মেলায় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার স্বামী মুমতাজ মুকুল নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লি কলেজের প্রভাষক। তিনি মুশুল্লি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিও। মুকুলের দুই স্ত্রী। বড় স্ত্রী তাদের তিন সন্তান নিয়ে শহরের গাইটাল এলাকায় জনতা রোডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তিনি নান্দাইল উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
স্থানীয়রা জানান, ছোট স্ত্রী ইফতির সঙ্গেই প্রভাষক মুকুল বেশি থাকতেন। তবে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রবিবার রাতে স্থানীয়রা তাদের ঝগড়া শুনেছেন। গভীর রাতে প্রতিবেশীরা জানালায় রশিতে ঝুলতে দেখেন ইফতিকে। তখন পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ দরজা ভেঙে বাসা থেকে ইফতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সময় তার স্বামী বাসায় ছিলেন না। পরে সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইফতির স্বামী মুকুলকে পুলিশ তাদের জিম্মায় নেয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁঞা বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী মুমতাজ মুকুলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএস